×
জাতীয় পতাকা
বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদ এবং দুই লাখ মা-বোনের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজ পতাকা আমাদের গর্ব।
পতাকার বর্ণনা
অনুপাত: দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের অনুপাত ১০:৬ বা ৫:৩।
রং: পতাকার মূল জমিনের রঙ গাঢ় সবুজ এবং এর ভেতরে একটি লাল বৃত্ত রয়েছে।
বৃত্তের মাপ: লাল বৃত্তটির ব্যাসার্ধ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ। এটি পতাকার দৈর্ঘ্যের ২০ ভাগের ৯ অংশ থেকে অঙ্কিত উলম্ব রেখা এবং প্রস্থের মধ্যবিন্দু থেকে অঙ্কিত অনুভূমিক রেখার ছেদবিন্দুতে অবস্থিত। অর্থাৎ, বৃত্তটি পতাকার ঠিক মাঝখানে না হয়ে একটু বামের দিকে সামান্য হেলে থাকে, যাতে পতাকা উড়লে এটি ঠিক মাঝখানে দেখায়।
রঙের তাৎপর্য
সবুজ রঙ: এটি বাংলাদেশের চিরসবুজ প্রকৃতি, তারুণ্য এবং দেশের সমৃদ্ধ ভূমির রূপকে নির্দেশ করে।
লাল রঙ: উদীয়মান সূর্য এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের রক্তের লালিমার প্রতীক। লাল বৃত্তটি স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এবং একটি নতুন সূর্যের উদয়কে ফুটিয়ে তোলে।
পতাকার ইতিহাস
প্রথম উত্তোলন: ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় তৎকালীন ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রব প্রথম স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
জাতীয় পতাকা হিসেবে স্বীকৃতি: ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের এক স্বাধীন বাংলা ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সভায় পতাকাটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
সংবিধানিক স্বীকৃতি ও পরিমার্জন: ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ সরকার পতাকার বর্তমান ডিজাইন আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করে। পরবর্তীতে পতাকার সঠিক ব্যবহার ও অনুপাত নিশ্চিত করতে ১৯৭৮ সালে পতাকা বিধিমালা তৈরি করা হয়।
পতাকার সম্মান ও ব্যবহারবিধি
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় সম্মান প্রদর্শন করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পতাকা খোলা আকাশে উত্তোলিত থাকে। তবে বিশেষ জাতীয় দিবসে বা সরকারি নির্দেশনায় রাতেও আলোকসজ্জার মাধ্যমে পতাকা রাখা যেতে পারে। অর্ধনমিত রাখার নিয়ম: জাতীয় শোক দিবসে বা সরকার নির্ধারিত দিনে পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। প্রথমে পতাকাটি একদম উঁচুতে তুলে তারপর নামিয়ে অর্ধনমিত স্থানে স্থাপন করতে হয় এবং নামানোর সময়ও একবার উঁচুতে তুলে নামাতে হয়।
শিক্ষার্থীদের জন্য বার্তা
জাতীয় পতাকা আমাদের লাল-সবুজের অহংকার। এর মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব।